প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ২০২৬

 প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ২০২৬ বিস্তারিত তথ্য




প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ভারত সরকারের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প। এই প্রকল্পের শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর মূল লক্ষ্য হল ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি গরিব পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ন হল সবার জন্য বাড়ি।


এই যোজনাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হল প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা এবং অন্যটি হল প্রধানমন্ত্রী শহুরে আবাস যোজনা। গ্রামের গরিব মানুষের জন্য গ্রামীণ যোজনা এবং শহরের গরিব মানুষের জন্য শহুরে যোজনা।


গ্রামীণ আবাস যোজনায় কি সুবিধা পাওয়া যায়?


গ্রামীণ এলাকায় যাদের কাঁচা বাড়ি আছে, যাদের বাড়ির ছাদ টিনের বা খড়ের, যাদের দেয়াল মাটির, তাদেরকে পাকা বাড়ি তৈরি করার জন্য সরকার টাকা দেয়। সমতল এলাকায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পাহাড়ি এবং দুর্গম এলাকায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই টাকা তিনটি কিস্তিতে দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তিতে ৪০ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার এবং তৃতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা।


এর সাথে আরও সুবিধা আছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান যোজনার মাধ্যমে ৯০ থেকে ৯৫ দিনের মজুরির টাকা দেওয়া হয়। প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে শৌচাগার তৈরির জন্য ১২ হাজার টাকা আলাদা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একজন সুবিধাভোগী প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পায়।


শহুরে আবাস যোজনায় কি সুবিধা?


শহরে যারা বস্তিতে থাকে, যাদের নিজের বাড়ি নেই, যারা ভাড়া বাড়িতে থাকে, তাদের জন্য এই যোজনা। এখানে চারটি ভাগ আছে। ইন সিটু স্লাম পুনর্বাসন, ক্রেডিট লিঙ্কড সাবসিডি, অংশীদারিত্বে সাশ্রয়ী আবাসন এবং উপকারভোগী নেতৃত্বাধীন নির্মাণ।


যদি আপনি ব্যাংক থেকে হোম লোন নেন তাহলে সুদের উপর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পাবেন। আপনার লোনের সুদ অনেক কমে যাবে।


কারা আবেদন করতে পারবে? যোগ্যতা কি লাগবে?


১. আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

২. আবেদনকারীর পরিবারে আগে থেকে কোনো পাকা বাড়ি থাকলে চলবে না।

৩. পরিবারে কেউ সরকারি চাকরি করলে আবেদন করা যাবে না।

৪. পরিবারে কোনো চার চাকার গাড়ি থাকলে আবেদন বাতিল হবে।

৫. পরিবারের মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকার কম হতে হবে গ্রামীণ যোজনার জন্য। শহুরে যোজনার জন্য বছরে ৩ লক্ষ, ৬ লক্ষ এবং ১৮ লক্ষ পর্যন্ত তিনটি ক্যাটাগরি আছে।

৬. ২০১১ সালের আর্থ সামাজিক জনগণনা তালিকায় নাম থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

৭. মহিলা, তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বাড়িটি মহিলার নামে হতে হবে।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি?


আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাংকের পাসবুকের জেরক্স, জব কার্ড, আয়ের শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র, জমির দলিল বা পর্চা, মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।


নতুন লিস্ট কিভাবে দেখবেন?


প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হল http://pmayg.nic.in। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে স্টেকহোল্ডার অপশনে ক্লিক করুন। তারপর আইএওয়াই বা পিএমএওয়াইজি বেনিফিশিয়ারি অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলে আপনার বাড়ির স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।


আরেকটি পদ্ধতি হল অ্যাডভান্স সার্চ। http://pmayg.nic.in/netiay/AdvanceSearch.aspx এই লিঙ্কে গিয়ে রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ, তারপর জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত সিলেক্ট করলে পুরো লিস্ট চলে আসবে। ২০২৫-২৬ সালের নতুন লিস্ট সেখানে দেওয়া আছে।


নতুন আবেদন কিভাবে করবেন?


অনলাইন পদ্ধতি: http://pmaymis.gov.in ওয়েবসাইটে যান। সিটিজেন অ্যাসেসমেন্ট অপশনে ক্লিক করুন। আধার নম্বর দিন। তারপর একটি ফর্ম খুলবে। সেখানে নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, ব্যাংকের তথ্য, আয়ের তথ্য সব পূরণ করুন। তারপর সাবমিট করুন।


অফলাইন পদ্ধতি: আপনার গ্রাম পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে যান। সেখানে আবাস যোজনার ফর্ম চান। ফর্মটি ভালোভাবে পূরণ করে জমা দিন। তারপর পঞ্চায়েত থেকে আপনার বাড়ি তদন্ত করতে আসবে। সব ঠিক থাকলে আপনার নাম লিস্টে উঠবে।


২০২৬ সালের নতুন আপডেট


কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও ৩ কোটি নতুন বাড়ি তৈরি করা হবে। এর মধ্যে ২ কোটি গ্রামে এবং ১ কোটি শহরে। যাদের নাম আগে বাদ গিয়েছিল তাদের জন্য আবার সার্ভে শুরু হয়েছে। আবাস প্লাস অ্যাপের মাধ্যমে এই সার্ভে চলছে। আপনি নিজেও এই অ্যাপ ডাউনলোড করে আপনার কাঁচা বাড়ির ছবি তুলে আপলোড করতে পারেন।


পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প বাংলা আবাস যোজনা নামে পরিচিত। এখানে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে টাকা দেয়।


গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা


মনে রাখবেন আবাস যোজনার জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। যদি কেউ আপনার কাছে টাকা চায় তাহলে সে দালাল। তাকে টাকা দেবেন না। সরাসরি বিডিও অফিসে অভিযোগ জানান। আপনার ব্যাংকের টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।


আপনার যদি পাকা বাড়ি না থাকে তাহলে আজই আপনার পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করুন।

Post a Comment

Thank you visit again

নবীনতর পূর্বতন