গ্রামে বসবাস করে শহরে না গিয়েও এখন ভালো ইনকাম করা সম্ভব। কম পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন কিছু ব্যবসার আইডিয়া




১. দেশি মুরগি পালন এবং হাঁস পালন


গ্রামের জন্য এটা সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক ব্যবসা। দেশি মুরগির চাহিদা বাজারে সব সময় বেশি। ৫০ টা মুরগি দিয়ে শুরু করলে খরচ পড়বে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ৩ মাসে ডিমের থেকে এবং মাংস বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ইনকাম সম্ভব। হাঁস পালনও একই রকম লাভজনক বিশেষ করে যেখানে পুকুর আছে। ডিম এবং মাংস দুটোই বিক্রি হয়।


২. ছাগল পালন ব্যবসা


ছাগল পালনকে গরিবের এটিএম বলা হয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদা রাজ্য জুড়ে প্রচুর। ২ টো ছাগল দিয়ে শুরু করলে ১ বছরের মধ্যে ৮ থেকে ১০ টা ছাগল হয়ে যাবে। একটি ছাগল ৮০০০ থেকে ১২০০০ টাকায় বিক্রি হয়। কোনো বাড়তি জায়গার প্রয়োজন নেই, বাড়ির উঠোনেই করা যায়। কাঁঠাল পাতা, ঘাস খেয়েই বড় হয়।


৩. মাশরুম চাষ


কম জায়গায় বেশি লাভের ব্যবসা হলো মাশরুম চাষ। ১০ বাই ১২ ফুটের একটি ঘর হলেই যথেষ্ট। খড় বিচুলি এবং বীজ দিয়ে শুরু করা যায়। ১ কেজি মাশরুমের বাজার মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। হোটেল এবং অনলাইনে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মহিলারাও বাড়িতে বসে এই চাষ করতে পারেন। মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব।


৪. জৈব সার বা ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি


এখন সবাই জৈব চাষের দিকে ঝুঁকছে। তাই জৈব সারের চাহিদা প্রচুর। গোবর বা কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করতে খরচ খুব কম। ১ কেজি জৈব সার ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়। সরকার থেকেও এই ব্যবসার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হয়। কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করলে প্রশিক্ষণও পাওয়া যাবে।


৫. মাছ চাষ বা বায়োফ্লক


যাদের ছোট পুকুর আছে তারা মাছ চাষ শুরু করতে পারেন। রুই, কাতলা, পাবদা, শিঙি মাগুরের চাহিদা ভালো। এখন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ছোট ট্যাংকে মাছ চাষ করা যাচ্ছে। ১ টি ১০০০০ লিটার ট্যাংকে ১৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করে ৩ মাসে ৩৫ হাজার টাকার মাছ উৎপাদন করা যায়। ব্লক থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়।


৬. সেলাই এবং ব্লাউজ তৈরির দোকান


গ্রামের মহিলাদের জন্য এটা খুব ভালো ব্যবসা। একটি সেলাই মেশিন থাকলে ব্লাউজ, পেটিকোট, স্কুল ড্রেস সেলাই করে মাসে ১২০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা আয় করা যায়। পুজোর সময় আয় আরও বেড়ে যায়। প্রথমে বাড়িতে শুরু করে পরে দোকান দেওয়া যায়।


৭. ছোট মুদিখানা বা কিরানা দোকান


প্রতি গ্রামে একটি মুদিখানা দোকানের প্রয়োজন হয়। ৩০০০০ থেকে ৪০০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে চাল, ডাল, তেল, সাবান, বিস্কুট দিয়ে দোকান শুরু করা যায়। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাভ থাকে। সাথে মোবাইল রিচার্জ এবং অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা রাখলে কাস্টমার বাড়বে।


৮. মোবাইল রিপেয়ারিং এবং এক্সেসরিজ


এখন গ্রামের সবার হাতে স্মার্টফোন। তাই মোবাইল খারাপ হলে সারাবার দোকানের চাহিদা বেড়েছে। ৩ মাসের একটি কোর্স করে মোবাইল রিপেয়ারিং এর কাজ শেখা যায়। মোবাইল কভার, চার্জার, ইয়ারফোন বিক্রিতেও ভালো লাভ থাকে। ২০০০০ টাকা দিয়ে ছোট দোকান খোলা সম্ভব।


৯. গরু পালন এবং দুধের ব্যবসা


দুটি গরু দিয়ে দুধের ব্যবসা শুরু করলে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ লিটার দুধ পাওয়া যাবে। ১ লিটার দুধ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। দুধ থেকে দই, ঘি, পনির তৈরি করে বিক্রি করলে লাভ দ্বিগুণ হবে। সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে গরু কেনার জন্য লোন পাওয়া যায়।


১০. আগরবাতি, মোমবাতি এবং পাঁপড় তৈরি


মহিলাদের স্বনির্ভর দলের জন্য সেরা ব্যবসা। আগরবাতি এবং মোমবাতি তৈরির মেশিন ১২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। কাঁচামাল বাজারে সহজেই পাওয়া যায়। পুজোর আগে মোমবাতির চাহিদা প্রচুর থাকে। পাঁপড়, আচার, বড়ি তৈরি করেও মাসে ১০০০০ টাকা আয় করা যায়।


১১. নার্সারি এবং ফুল চাষ


ফুল চাষের লাভ অনেক বেশি। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা চাষ করে প্রতিদিন ফুলের বাজারে বিক্রি করা যায়। একটি নার্সারিতে চারা গাছ তৈরি করে বিক্রি করলেও ভালো ইনকাম হয়। শহরের মানুষ এখন ছাদ বাগানের জন্য গাছ কিনছেন।


১২. টোটো বা অটো ভাড়া


গ্রাম থেকে শহরে যাতায়াতের জন্য টোটো বা অটোর চাহিদা অনেক। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে টোটো কিনে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ইনকাম করা যায়। ব্যাংক থেকে লোন নিয়েও এই ব্যবসা করা যায়।


কিভাবে শুরু করবেন


প্রথমে বাজার বুঝুন আপনার এলাকায় কোনটা চলবে। কম পুঁজিতে ছোট করে শুরু করুন। সরকারি প্রকল্প গুলোর সুবিধা নিন। যেমন স্বনির্ভর বাংলা, আনন্দধারা, মাটি সৃষ্টি প্রকল্প থেকে লোন এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্লক অফিস বা বিডিও অফিসে যোগাযোগ করুন। ইউটিউব থেকে কাজ শিখে নিন।


শেষ কথা


গ্রামে ব্যবসা মানে কম খরচ, কম প্রতিযোগিতা এবং বেশি লাভ। শুধু পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা দরকার। উপরের ১২ টি আইডিয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দিয়ে আপনি আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন ছোট থেকে বড় হয়। প্রথমে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

Post a Comment

Thank you visit again

নবীনতর পূর্বতন