অন্নপূর্ণা যোজনার পেমেন্ট না ঢুকলে কি করবেন - সম্পূর্ণ সমাধান

 অন্নপূর্ণা যোজনা




 

পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে এখন অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি-র মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলা এই টাকা পাবেন বলে সরকার জানিয়েছে। ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।


কিন্তু অনেক মহিলার স্ট্যাটাস Approved দেখালেও টাকা ঢুকছে না। এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোট টেকনিক্যাল কারণে টাকা আটকে থাকে।


কেন টাকা ঢুকছে না - প্রধান কারণ গুলি


প্রথম কারণ হলো ডিবিটি লিংক না থাকা। সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে, শুধু আধার লিংক থাকলে হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে ডিবিটি বা এনপিসিআই লিংক সক্রিয় থাকতে হবে। অনেকের একাধিক অ্যাকাউন্ট আছে, টাকা হয়তো অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গেছে যেটা আধারের সাথে প্রাইমারি হিসেবে লিংক আছে।


দ্বিতীয় কারণ হলো নামের অমিল। আপনার আধার কার্ড, ব্যাংকের পাসবই এবং আবেদন ফর্মে নামের বানান এক হতে হবে। সামান্য ভুল থাকলেও সিস্টেম টাকা রিজেক্ট করে দেয়।


তৃতীয় কারণ হলো ভেরিফিকেশন এখনও বাকি। বিডিও বা এসডিও লেভেলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন চলছে। আপনার স্ট্যাটাস যদি আন্ডার প্রসেস, ফারদার ভেরিফিকেশন বা এনকোয়ারি পেন্ডিং দেখায়, তাহলে এখনও আপনার ফাইল ডিএম অফিসে স্যাংশনের জন্য যায়নি।


চতুর্থ কারণ হলো ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত। সরকার মৃত, শিফটেড, ডিলিটেড ভোটারদের লিস্ট থেকে নাম বাদ দিচ্ছে। আপনার নাম ভোটার লিস্টে ডিলিট হয়ে থাকলে অন্নপূর্ণা থেকেও নাম বাদ যেতে পারে। এসআইআর ২০২৬ এর জন্য এই যাচাই চলছে।


পঞ্চম কারণ হলো অযোগ্য বলে চিহ্নিত হওয়া। আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন, পেনশন পান, বা আয়কর দেন, তাহলে আপনি এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। ৬০ বছরের বেশি বয়স হলেও টাকা বন্ধ হয়ে যাবে।


ষষ্ঠ কারণ হলো একসাথে অনেক টাকা ট্রান্সফার। একদিনে ১.৫৬ কোটি মহিলাকে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ১৭ তারিখ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত ধাপে ধাপে টাকা ঢুকবে। তাই ২ থেকে ৩ দিন অপেক্ষা করতেই হবে।


যাদের পেমেন্ট হয়নি তারা এখন কি করবেন


স্টেপ ১ - স্ট্যাটাস চেক করুন


অন্নপূর্ণা যোজনা অফিসিয়াল পোর্টালে যান। মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি দিয়ে লগইন করুন। সেখানে দেখুন আপনার স্ট্যাটাস কি দেখাচ্ছে - Approved, Payment Initiated, Payment Success, নাকি Rejected। যদি Payment Success দেখায় কিন্তু টাকা ঢোকেনি, তাহলে বুঝবেন ব্যাংকে সমস্যা।


স্টেপ ২ - ব্যাংকে গিয়ে ৩টি জিনিস চেক করুন


নিকটবর্তী ব্যাংক শাখায় গিয়ে বলুন আমার অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় আছে কিনা চেক করে দিন।


১. আধার সিডিং স্ট্যাটাস Active আছে কিনা

২. এনপিসিআই ম্যাপারে আপনার এই অ্যাকাউন্টই লিংক আছে কিনা

৩. অ্যাকাউন্ট সচল আছে কিনা, কেওয়াইসি আপডেট আছে কিনা


অনেক সময় অ্যাকাউন্ট ডরমেন্ট হয়ে গেলে টাকা ফেরত চলে যায়। তাই কেওয়াইসি আপডেট খুব জরুরি।


স্টেপ ৩ - অন্য অ্যাকাউন্ট চেক করুন


যদি আপনার এসবিআই, বন্ধন, ইউবিআই একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে, সবগুলোর মিনি স্টেটমেন্ট বের করুন। টাকা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ঢুকে যেতে পারে। ইউআইডিএআই ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যাংক সিডিং স্ট্যাটাস চেক করলে বুঝতে পারবেন কোন ব্যাংকে টাকা যাচ্ছে।


স্টেপ ৪ - বিডিও, এসডিও বা পুরসভায় যোগাযোগ


যদি স্ট্যাটাস Rejected বা Further Verification দেখায়, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে বিডিও অফিসে যান। কি নেবেন - আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতা, ভোটার কার্ড, এবং অন্নপূর্ণার অ্যাপ্লিকেশন আইডি। সেখানে এনকোয়ারি অফিসারকে বলুন, তারা আবার ভেরিফিকেশন করে পাঠিয়ে দেবে।


কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার জন্য কেএমসি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। গ্রাম এলাকার জন্য বিডিও এবং শহর এলাকার জন্য এসডিও অফিসে যেতে হবে।


স্টেপ ৫ - যারা আগস্টেও পাননি তারা ডাবল টাকা পাবেন


সরকার জানিয়েছে, আগস্ট মাসে যোগ্য হয়েও টেকনিক্যাল কারণে যারা টাকা পাননি, তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করে সেপ্টেম্বর মাসের সাথে একসাথে দেওয়া হবে। তাই আপনি ৬০০০ টাকা একসাথে পেতে পারেন।


নতুন আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ


১লা জুন ২০২৬ থেকে নতুন পোর্টাল চালু হয়েছে। যারা এখনও আবেদন করেননি, অনলাইনে বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করুন। ফর্ম ফিলাপের সময় মোবাইল নম্বর সঠিক দেবেন, কারণ ওটিপি ওই নম্বরেই আসবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই নিজের নামে হতে হবে, জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না।


প্রতারণা থেকে বাঁচুন


অন্নপূর্ণা যোজনার নামে কোনো টাকা লাগে না। কেউ যদি বলে ১০০ টাকা দিলে ফর্ম ঠিক করে দেব, তাকে টাকা দেবেন না। শুধু সরকারি ওয়েবসাইট এবং বিডিও অফিসের উপর ভরসা রাখুন। কোনো লিংকে ক্লিক করে ওটিপি শেয়ার করবেন না।


শেষ কথা


Approved থাকা সত্ত্বেও টাকা না ঢুকলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডিবিটি লিংকই কারণ। তাই প্রথমে ব্যাংকে যান, ডিবিটি চালু করুন, ৭ দিন অপেক্ষা করুন। তার পরেও না ঢুকলে বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিন। সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেক যোগ্য মহিলাকে এই ৩০০০ টাকা পৌঁছে দেওয়া, তাই আপনার টাকা কোথাও যাবে না, একটু দেরিতে হলেও ঢুকে যাবে।

Post a Comment

Thank you visit again

নবীনতর পূর্বতন